Tuesday, April 19, 2022

অনুপ চণ্ডালের Haiku In Autumn Days সম্পর্কে প্রতিক্রিয়াঃ


 

 

অনুপ চণ্ডালের Haiku In Autumn Days সম্পর্কে প্রতিক্রিয়াঃ
হাইকুর মধ্যে দিয়ে যে এত গভীর অনুভূতির প্রকাশ ঘটানো সম্ভব তা অনুপ চণ্ডালের Haiku In Autumn Days না পড়লে বুঝতে পারতাম না। Autumn এর ভেতর বুঝি বাংলা শরৎ - হেমন্ত দু'টো ঋতু পড়ে! মাসের হিসেব করলে ভাদ্র থেকে নিয়ে অগ্রহায়ণ পর্যন্ত! ইংরেজিতে যাকে বলে Late Autumn বাংলায় তো সেটাই হেমন্ত।এই শুষ্কতার এমন সতেজ ও জীবন্ত প্রকাশ হাইকুর লাইনগুলোতে ছড়িয়ে আছে - বিস্ময়! বিস্ময়! এই যে Autumn কে বাংলায় বাঁধলেন, এর সবটুকুই বাংলার সৌন্দর্য। ইংরেজি ঋতু বলে তাতে এতটুকু বাইরের( বিদেশি) বিষয় নেই। শরতের কাশফুল কোথাও পাইনি।তাই ধরে নিচ্ছি এই উপাচার হেমন্তের। কিন্তু বিস্তৃতি বাংলার দুটো ঋতুর পুরোটা সময়। ঋতু বন্দনার বাইরে যে ব্যক্তিগত ও গৃহস্থালি মানুষের টুকরো টুকরো ছবি, সেগুলোর মধ্যেও রয়েছে মুগ্ধতার কারসাজি। আকাশের সৌন্দর্য থেকে নিয়ে পাকা ফসলের হলুদ পর্যন্ত এই সবকিছু তো আমাদের শৈশবের ফেলে আসা স্মৃতির মতোই মধু ঝড়াচ্ছে। আকাশে রঙের ক্যানভাসে বার্তা এসেছে কোথাও মরেছে কেউ, অথবা কার বুঝি উৎসব। গর্ভে বেড়ে উঠছে প্রিয় সন্তান। দূরে কোনো কুকুর মাতার জন্য কি নিবিড় মমতা। এই শুষ্কতা বুঝি পুড়িয়ে দিচ্ছে চোখ! ব্যাপারীর সাইকেলে মুরগীর খাঁচায় চুপচাপ মুরগীরা চলে যাচ্ছে । দুপুরের নিস্তব্ধতা ভাঙে এমন পাপ হতে দেয়া যাচ্ছে না, তাই পড়ে আসে বাইকের গতি। কুয়াশা কুয়াশা গ্রাম। ঋতুচক্রের বহু বহু উপহার এখানে আছে, যেন থাকাটা স্বাভাবিক। না থাকলে এই বন্দনা পূর্ণতা পাবেনা। এই যে জীবন্ত জীবন। যা অনুপ চন্ডালের অন্য লেখাগুলোতে পেয়েছি, রয়েছে এখানেও। অগ্রহায়ণের ঘ্রাণ নিয়ে যে রাত আসে।যে রাত প্রার্থনার মতো।এই হাইকুগুলো সেই প্রার্থনার উচ্চারণ।চাইলেই লেখা যায় না।
You can just wait
helplessly-
Never no when Haiku comes.
অনুপ চণ্ডাল বইটি উৎসর্গ করেছেন Jack Kerouac কে। তাঁর হাইকু বুঝি প্রিয়! আমার প্রিয় হয়ে গেছে অনুপ চণ্ডালের হাইকুগুলো। অনুভূতি লিখতে গিয়ে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছি....
.
ইয়াসির আরাফাত
.
Book:Haiku In Autumn Days.
Writer: Anup Chandal
Publisher: Protishilpo.
Year:2015.
Price: 90 BDT.
Distributors:
Ulukhor, Concord Emporium, Katabon,Dhaka.
Dhyanbindu,Kolkata.

পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ মাহী ফ্লোরার মরিয়মসমগ্রঃ মরিওঁম।


 


পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ মাহী ফ্লোরার মরিয়মসমগ্রঃ মরিওঁম।
 
মরিয়ম একটি সতেজ ফুল গাছ। মরিয়ম একটি ছোট পাখির প্রখর চোখ।মরিয়ম একটি ঘোর লাগা বসন্ত। মরিয়ম ছোট নদী, নদীর সহজ সন্তরণ। শব্দ, শব্দের গন্ধ উন্মাতাল রাতে জিকিরের শব্দ মরিয়ম।ওঁম কারের গভীর বিস্তৃতি মরিয়ম।
মাহী ফ্লোরা'র কবিতায়-
" একজোড়া ছোট দুল মরিয়ম, ঝকঝকে
হাসি মরিয়ম, রাঙানো হাত মরিয়ম,
খোপা ফুল মরিয়ম, সানাই মরিয়ম,
কান্না মরিয়ম, বিদায় মরিয়ম...."
মরিয়ম সাঙল মাটি, সন্ধ্যার আকাশ। মরিয়ম সমস্ত চেতনাজুড়ে ভর করে। মরিয়ম বুঁদ হয়ে থাকা নামগুলো।
" পাহাড়, স্থির, সময়।চার্চ, অপেক্ষা, ঘুঙুরধ্বনি।
বৃক্ষ, সবুজ, এলোমেলো। আলো, আঁধার,
কুয়াশা, মুখ, অসুখ। ধোঁয়া, ধুসর,অতীত।
কথা, গল্প, অস্থিরতা, তুমি। তুমি নিতান্তই
এক অস্থিরতম শিশু।
মরিয়ম, যেনো আমাদের ঘিরে আছে প্রাচীন মেন্দাসিয়াম।"
মরিয়ম, " তুমি " শব্দের মতো ব্যাঞ্জো এক। নানাবিধ মূর্ছনা তার। মাহী ফ্লোরা' র এই বইটি পড়তে গিয়ে সমালোচকের ছুরি কাঁচি সরিয়ে রাখতে বাধ্য হই। মরিয়ম নামে যে গভীরতা, শব্দে শব্দে তার যে বিভিন্ন উচ্চারণ, এতে মুগ্ধ হয়েছি। মরিওঁম বইটিতে কবিতার কোনো শিরোনাম নেই। ১,২,৩... এভাবে কবিতাক্রম। এই বইয়ের প্রতিটি কবিতা আলাদা কিছু নয়। সবটাই যেন একটি কবিতা । অথচ তার প্রকাশভঙ্গি বহুবিধ। মরিওঁম এর কবিতাগুলো তাই অনিবার্যভাবে মরিয়ম সমগ্র। আলাদা করে কোন কবিতাটি ভালো লাগলো সেটা বলা বেশ কঠিন। মাহী ফ্লোরা'র কবিতার ভাষা সরল। কিন্তু কিছু কবিতা আছে যা সরল হলেও সুগভীর । মরিওঁম আদতে অনুভূতি সমগ্র। পাঠকের সংবেদনশীলতা রঙিন হয়ে ওঠে অনুভূতির প্রখরতায়। যেন বিগলিত বরফ জল। চলে যায়, শীতলতা রেখে যায়। কবিতার যে অংশটুকু সমালোচনার অযোগ্য সে অংশটুকুই আসলে কবিতা। যে কবিতা অনুভূতির দোসর তার সম্পর্কে খুব বেশি বলা কঠিন। বাড়িয়ে বলা হলো? হয়তোবা। কোনো কবিতা বা কবিতার লাইন বা রেখা উদ্ধৃত করে মরিওঁম এর সমগ্রতা ভাঙতে ইচ্ছুক নই যদিও , তবু কিছু কবিতা বা কবিতার লাইন এখানে রেখে দিচ্ছি।
মরিয়মকে মনে আছে? ইচ্ছে সমবয়সী যার
একটি কুকুর ছিলো। ড্যানি বলে ডাকতেই
এতদিন পর বনজঙ্গল ফুঁড়ে এসে হাজির
হলো স্মৃতিতে। হাতে টিকিট নিয়ে আমরা
বলেছিলাম চলো যাই, সিনেমার হলে।
তোমাকে না দেখতে দেখতে আমার চোখ
অন্ধ হয়ে যায়। বুকের উপর ধাবা গেড়ে
ড্যানিও দেখছিল পুরোটা ছবি, আমরা
বলেছিলাম মানুষ মানুষের জন্য।
তোমার ঘরের দরজা এমন চাপা মরিয়ম,
আকাশ ঢুকতে ঢুকতে মেঘ থেমে যায়। হাওয়া
করো হাওয়া, বাতাসের আগে যেন আসে
নিমপাতার ঘ্রাণ, মরিয়ম বসন্ত আসে যে
কোনো পরীক্ষার আগে। স্বপ্নে যেমন তুমি
দেখো আজ পড়ে এসেছো ভুল বিষয়ের
প্রশ্ন অথবা তোমার গায়ে নেই কোনো
পোষাকের ভ্রুণ!
ঘুম বলছে দুচোখ ফুলে যাচ্ছে তোমার
মরিয়ম। রাত গভীর হয়। কুয়াশা ঘনায়
জানালার কাঁচে। চিঠির কম্পন কেবলই
টের পায় চোখের পাতা। রাত উঠে যায়,
রাত নেমে আসে, মরিয়ম মনে আছে
ভালোবাসা তোমাকে কি নামে ডাকে?
ঘুমুতে ঘুমুতে ঝুম রাত হয়ে যায়। ছেলেটি
আজকাল বড় জেগে থাকে।
মরিয়ম মানে আমরা। পানির যাত্রার মত,
একটা সহজ জীবন মুখের ভেতরে গলতে
গলতে যায়। হাত বাড়ালে দেখি বৃষ্টি হয়।
দরজা বন্ধ করলে প্রতিবেশী আসে।
বিকেল খেলে দাড়িয়াবান্ধা
উঠোন জুড়ে, বহুদিন পর খাঁ খাঁ বাড়িটা
মরে যাচ্ছে। কতদিন কোনো গাছ জন্মায় না
এখানে অথচ মরিয়ম শেকড় ছেড়ে গেছে
চা গাছের মতো।
দূর্বলতাগুলো তোমার ঘরের দিকে ছুঁড়ে দেবো মরিয়ম।
জলে ছেড়ে দিও। মাছ হয়ে জন্মাবে!
পূর্বজন্মের স্মৃতি নিয়ে আমাদের কথা শেষ। জলকে
তুমি কখনো বলোনি সাঁতারের কথা। আমি জলে
গেলে তাই জমে যাই।
তোমারও ভীষণ তৃষ্ণা পায়।
আকাশ থেকে যে মেঘ নামে তাকে পাত্তা দিও না,
চোখের বৃষ্টিকে দূর্বলতা ভেবে তুমিও কতদিন
ছুঁড়ে ফেলেছো কাছের জলাশয়ে!
ইদানিং তাদের কেউ কেউ মাছ হয়ে বেঁচে গেছে।
*
" গিলে ফেলতে গিয়ে জিভের ভেতর একটা
সমুদ্র আটকে গেলো। পুরনো ছবির ভেতর ভাসতে
ভাসতে আমিও একদিন সমুদ্রে যাবো, হলুদ একটা
মাছের জন্য।মরিয়ম বড়শি ধরে আছে.."
*
১১
এই পৃথিবীতে আমার নিজের সন্তান ছাড়া
আর কেউ নেই। মরিয়ম যেদিন পথের
ভেতর ডেকে এনেছিল সামসাম মাছকে,
সেদিনই নিশ্বাস বন্ধ হয়ে মরে গেছে মা- বাপ
আর পাখিদের বিপরীত সম্পর্ক। সন্ধ্যার মুখে
একটি ব্যর্থ ট্যাটু এঁকে আমিও আমার সন্তান
রেখে ঘুমিয়ে পড়ব কসম।
*
১৫
বিষন্ন হলো রঙিন জাল। আটকে পড়ছে
মরিয়মসমগ্র! ক্ষুধায়, তৃষ্ণায় মরিয়ম আটকে
গেছে সুতোগামী একটি রঙের ঠোঁটে।
ঠোঁট বলতেই একটি পাখিকে মনে পড়লো।
ফরেইন রিলেশন ঠুকরে ঠুকরে খাওয়াই ছিল
যার সারাদিনের কাজ।
*
১৬
ভীষণ রোদ একটি শাদা বাড়ির উপর শাড়ির
পাড়ের মতো পড়ছে।
মরিয়ম শুকিয়ে যাচ্ছে রোদে।
*
" আমি তো আমি না, শুধুই একটা বিস্কুটের খোসা, দীর্ঘ একটা জুতার ভেতর।"
*
" অদৃষ্টের এই গ্লাসে ঘাসের রস, ডুবে আছে
মুক্তোর মতো চাঁদ, এই পৃথিবী এমন
তোমার সন্তান যেভাবে গর্ভ ভ্রমণ করে আমার!"
*
" শহরে মিথ্যে গাছের সারি, আলোর জড়িবুটি,
হারানো মরিয়ম, সিনেমার পোস্টার-
ভালো থেকো।"
বইঃ মরিওঁম
লেখকঃ মাহী ফ্লোরা।
ধরনঃ বাংলা কবিতা।
প্রকাশকঃ চৈতন্য।
প্রকাশের সালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯।
পৃষ্ঠাঃ ৫২।
মূল্যঃ ১৫০ টাকা।

পাঠপ্রতিক্রিয়া: ইহিতা এরিনের " দেড়কাঠা উদ্ভিদবাড়ি"


 


 
ইহিতা এরিনের " দেড়কাঠা উদ্ভিদবাড়ি" পড়লাম। যেন এখানে সেখানে ফুল ফুটে আছে। বিচিত্র তার সৌরভ। অথবা কবিতায় নিনাদিত হচ্ছে বিভিন্ন তরঙ্গের শব্দ । শব্দগুলো টুংটাং বাজছে, কাচের মতো ভাঙছে, দূর থেকে ভেসে আসা পাখি ডাকের মতো হারিয়ে যাচ্ছে কোথাও। ইহিতা এরিন যেন শব্দজাল বুনছেন অথবা শব্দ সমীকরণের ভেতর ছড়িয়ে দিচ্ছেন চিন্তাসূত্র, সেটা পাঠককে ভাবাবে। কেবল শব্দের বাহারী খেলা কোথাও কোথাও চোখে পড়ে। শব্দগুলো পিয়ানোর বোতাম যেন৷ পাশাপাশি সাজানো আছে। মিলিয়ে বাজাতে পারলেই সংগীত নির্মিত হবে। এই নির্মাণ কি কবির একার? যতটুকু মুগ্ধতা পাওয়া হলো, যতটুকু পাওয়া হলো না সবকিছু মিলিয়ে কয়েকটি কবিতা বেশ ভালো লেগেছে। কবিকে
অভিনন্দন
বইঃ দেড়কাঠা উদ্ভিদবাড়ি।
লেখকঃ ইহিতা এরিন।
প্রকাশকঃ ঘোড়াউত্রা।
প্রকাশের সালঃ মার্চ ২০২১।
মূল্যঃ ৩৫ টাকা

পাঠপ্রতিক্রিয়া: অনুগল্প সংকলন " ড্যাস " তৃতীয় সংখ্যা


 


 
অনুগল্প সংকলন " ড্যাস " তৃতীয় সংখ্যা হাতে পেয়েছিলাম মাস কয়েক আগে। সম্ভবত ৪/৫ টা কপি অর্ডার করেছলাম।নিজের জন্য এক কপি রেখে বাকিগুলো আরও ২/৩ জনকে দিয়েছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল তারা প্রত্যেকে সংকলনটি পড়ে মন্তব্য করবে। আমার পাঠ্ অনুভূতির সাথে আরও কয়েকজনের পাঠ অনুভূতি জানা যাবে। বাস্তবতা হলো কেবল একজন ব্যতীত আর কেউ কিছু জানাননি। সংকলনটি ছোট। পড়তে এক ঘন্টার বেশি সময় লাগেনা। মন্তব্য করতেও বেশি পরিশ্রমের দরকার পড়ে না।
আমার প্রতিক্রিয়া সংক্ষেপে জানাইঃ
অনুগল্পগুলো পড়েছি। অধিকাংশ লেখায় বিবৃতি আছে কিন্তু গল্পটা নেই।৪/৫ টি লেখা ভালো লেগেছে। ড্যাস এর পরবর্তী সংখ্যার জন্য শুভকামনা।
অনুগল্প সংকলন - " ড্যাস"
সম্পাদক - ইউসুফ আলমগীর।
প্রকাশকাল- ১৬ ডিসেম্বর ২০২১।
যোগাযোগ- ২৩৮, জেলা পরিষদ মার্কেট। কুড়িগ্রাম, বাংলাদেশ।
মুঠোফোনঃ ০১৭১২ ২৫ ০২ ০৫

Powered by Blogger.

Formulir Kontak

Name

Email *

Message *

Search This Blog

Subscribe Here

Recent

Flickr