Tuesday, April 19, 2022

অনুপ চণ্ডালের Haiku In Autumn Days সম্পর্কে প্রতিক্রিয়াঃ


 

 

অনুপ চণ্ডালের Haiku In Autumn Days সম্পর্কে প্রতিক্রিয়াঃ
হাইকুর মধ্যে দিয়ে যে এত গভীর অনুভূতির প্রকাশ ঘটানো সম্ভব তা অনুপ চণ্ডালের Haiku In Autumn Days না পড়লে বুঝতে পারতাম না। Autumn এর ভেতর বুঝি বাংলা শরৎ - হেমন্ত দু'টো ঋতু পড়ে! মাসের হিসেব করলে ভাদ্র থেকে নিয়ে অগ্রহায়ণ পর্যন্ত! ইংরেজিতে যাকে বলে Late Autumn বাংলায় তো সেটাই হেমন্ত।এই শুষ্কতার এমন সতেজ ও জীবন্ত প্রকাশ হাইকুর লাইনগুলোতে ছড়িয়ে আছে - বিস্ময়! বিস্ময়! এই যে Autumn কে বাংলায় বাঁধলেন, এর সবটুকুই বাংলার সৌন্দর্য। ইংরেজি ঋতু বলে তাতে এতটুকু বাইরের( বিদেশি) বিষয় নেই। শরতের কাশফুল কোথাও পাইনি।তাই ধরে নিচ্ছি এই উপাচার হেমন্তের। কিন্তু বিস্তৃতি বাংলার দুটো ঋতুর পুরোটা সময়। ঋতু বন্দনার বাইরে যে ব্যক্তিগত ও গৃহস্থালি মানুষের টুকরো টুকরো ছবি, সেগুলোর মধ্যেও রয়েছে মুগ্ধতার কারসাজি। আকাশের সৌন্দর্য থেকে নিয়ে পাকা ফসলের হলুদ পর্যন্ত এই সবকিছু তো আমাদের শৈশবের ফেলে আসা স্মৃতির মতোই মধু ঝড়াচ্ছে। আকাশে রঙের ক্যানভাসে বার্তা এসেছে কোথাও মরেছে কেউ, অথবা কার বুঝি উৎসব। গর্ভে বেড়ে উঠছে প্রিয় সন্তান। দূরে কোনো কুকুর মাতার জন্য কি নিবিড় মমতা। এই শুষ্কতা বুঝি পুড়িয়ে দিচ্ছে চোখ! ব্যাপারীর সাইকেলে মুরগীর খাঁচায় চুপচাপ মুরগীরা চলে যাচ্ছে । দুপুরের নিস্তব্ধতা ভাঙে এমন পাপ হতে দেয়া যাচ্ছে না, তাই পড়ে আসে বাইকের গতি। কুয়াশা কুয়াশা গ্রাম। ঋতুচক্রের বহু বহু উপহার এখানে আছে, যেন থাকাটা স্বাভাবিক। না থাকলে এই বন্দনা পূর্ণতা পাবেনা। এই যে জীবন্ত জীবন। যা অনুপ চন্ডালের অন্য লেখাগুলোতে পেয়েছি, রয়েছে এখানেও। অগ্রহায়ণের ঘ্রাণ নিয়ে যে রাত আসে।যে রাত প্রার্থনার মতো।এই হাইকুগুলো সেই প্রার্থনার উচ্চারণ।চাইলেই লেখা যায় না।
You can just wait
helplessly-
Never no when Haiku comes.
অনুপ চণ্ডাল বইটি উৎসর্গ করেছেন Jack Kerouac কে। তাঁর হাইকু বুঝি প্রিয়! আমার প্রিয় হয়ে গেছে অনুপ চণ্ডালের হাইকুগুলো। অনুভূতি লিখতে গিয়ে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছি....
.
ইয়াসির আরাফাত
.
Book:Haiku In Autumn Days.
Writer: Anup Chandal
Publisher: Protishilpo.
Year:2015.
Price: 90 BDT.
Distributors:
Ulukhor, Concord Emporium, Katabon,Dhaka.
Dhyanbindu,Kolkata.

পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ মাহী ফ্লোরার মরিয়মসমগ্রঃ মরিওঁম।


 


পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ মাহী ফ্লোরার মরিয়মসমগ্রঃ মরিওঁম।
 
মরিয়ম একটি সতেজ ফুল গাছ। মরিয়ম একটি ছোট পাখির প্রখর চোখ।মরিয়ম একটি ঘোর লাগা বসন্ত। মরিয়ম ছোট নদী, নদীর সহজ সন্তরণ। শব্দ, শব্দের গন্ধ উন্মাতাল রাতে জিকিরের শব্দ মরিয়ম।ওঁম কারের গভীর বিস্তৃতি মরিয়ম।
মাহী ফ্লোরা'র কবিতায়-
" একজোড়া ছোট দুল মরিয়ম, ঝকঝকে
হাসি মরিয়ম, রাঙানো হাত মরিয়ম,
খোপা ফুল মরিয়ম, সানাই মরিয়ম,
কান্না মরিয়ম, বিদায় মরিয়ম...."
মরিয়ম সাঙল মাটি, সন্ধ্যার আকাশ। মরিয়ম সমস্ত চেতনাজুড়ে ভর করে। মরিয়ম বুঁদ হয়ে থাকা নামগুলো।
" পাহাড়, স্থির, সময়।চার্চ, অপেক্ষা, ঘুঙুরধ্বনি।
বৃক্ষ, সবুজ, এলোমেলো। আলো, আঁধার,
কুয়াশা, মুখ, অসুখ। ধোঁয়া, ধুসর,অতীত।
কথা, গল্প, অস্থিরতা, তুমি। তুমি নিতান্তই
এক অস্থিরতম শিশু।
মরিয়ম, যেনো আমাদের ঘিরে আছে প্রাচীন মেন্দাসিয়াম।"
মরিয়ম, " তুমি " শব্দের মতো ব্যাঞ্জো এক। নানাবিধ মূর্ছনা তার। মাহী ফ্লোরা' র এই বইটি পড়তে গিয়ে সমালোচকের ছুরি কাঁচি সরিয়ে রাখতে বাধ্য হই। মরিয়ম নামে যে গভীরতা, শব্দে শব্দে তার যে বিভিন্ন উচ্চারণ, এতে মুগ্ধ হয়েছি। মরিওঁম বইটিতে কবিতার কোনো শিরোনাম নেই। ১,২,৩... এভাবে কবিতাক্রম। এই বইয়ের প্রতিটি কবিতা আলাদা কিছু নয়। সবটাই যেন একটি কবিতা । অথচ তার প্রকাশভঙ্গি বহুবিধ। মরিওঁম এর কবিতাগুলো তাই অনিবার্যভাবে মরিয়ম সমগ্র। আলাদা করে কোন কবিতাটি ভালো লাগলো সেটা বলা বেশ কঠিন। মাহী ফ্লোরা'র কবিতার ভাষা সরল। কিন্তু কিছু কবিতা আছে যা সরল হলেও সুগভীর । মরিওঁম আদতে অনুভূতি সমগ্র। পাঠকের সংবেদনশীলতা রঙিন হয়ে ওঠে অনুভূতির প্রখরতায়। যেন বিগলিত বরফ জল। চলে যায়, শীতলতা রেখে যায়। কবিতার যে অংশটুকু সমালোচনার অযোগ্য সে অংশটুকুই আসলে কবিতা। যে কবিতা অনুভূতির দোসর তার সম্পর্কে খুব বেশি বলা কঠিন। বাড়িয়ে বলা হলো? হয়তোবা। কোনো কবিতা বা কবিতার লাইন বা রেখা উদ্ধৃত করে মরিওঁম এর সমগ্রতা ভাঙতে ইচ্ছুক নই যদিও , তবু কিছু কবিতা বা কবিতার লাইন এখানে রেখে দিচ্ছি।
মরিয়মকে মনে আছে? ইচ্ছে সমবয়সী যার
একটি কুকুর ছিলো। ড্যানি বলে ডাকতেই
এতদিন পর বনজঙ্গল ফুঁড়ে এসে হাজির
হলো স্মৃতিতে। হাতে টিকিট নিয়ে আমরা
বলেছিলাম চলো যাই, সিনেমার হলে।
তোমাকে না দেখতে দেখতে আমার চোখ
অন্ধ হয়ে যায়। বুকের উপর ধাবা গেড়ে
ড্যানিও দেখছিল পুরোটা ছবি, আমরা
বলেছিলাম মানুষ মানুষের জন্য।
তোমার ঘরের দরজা এমন চাপা মরিয়ম,
আকাশ ঢুকতে ঢুকতে মেঘ থেমে যায়। হাওয়া
করো হাওয়া, বাতাসের আগে যেন আসে
নিমপাতার ঘ্রাণ, মরিয়ম বসন্ত আসে যে
কোনো পরীক্ষার আগে। স্বপ্নে যেমন তুমি
দেখো আজ পড়ে এসেছো ভুল বিষয়ের
প্রশ্ন অথবা তোমার গায়ে নেই কোনো
পোষাকের ভ্রুণ!
ঘুম বলছে দুচোখ ফুলে যাচ্ছে তোমার
মরিয়ম। রাত গভীর হয়। কুয়াশা ঘনায়
জানালার কাঁচে। চিঠির কম্পন কেবলই
টের পায় চোখের পাতা। রাত উঠে যায়,
রাত নেমে আসে, মরিয়ম মনে আছে
ভালোবাসা তোমাকে কি নামে ডাকে?
ঘুমুতে ঘুমুতে ঝুম রাত হয়ে যায়। ছেলেটি
আজকাল বড় জেগে থাকে।
মরিয়ম মানে আমরা। পানির যাত্রার মত,
একটা সহজ জীবন মুখের ভেতরে গলতে
গলতে যায়। হাত বাড়ালে দেখি বৃষ্টি হয়।
দরজা বন্ধ করলে প্রতিবেশী আসে।
বিকেল খেলে দাড়িয়াবান্ধা
উঠোন জুড়ে, বহুদিন পর খাঁ খাঁ বাড়িটা
মরে যাচ্ছে। কতদিন কোনো গাছ জন্মায় না
এখানে অথচ মরিয়ম শেকড় ছেড়ে গেছে
চা গাছের মতো।
দূর্বলতাগুলো তোমার ঘরের দিকে ছুঁড়ে দেবো মরিয়ম।
জলে ছেড়ে দিও। মাছ হয়ে জন্মাবে!
পূর্বজন্মের স্মৃতি নিয়ে আমাদের কথা শেষ। জলকে
তুমি কখনো বলোনি সাঁতারের কথা। আমি জলে
গেলে তাই জমে যাই।
তোমারও ভীষণ তৃষ্ণা পায়।
আকাশ থেকে যে মেঘ নামে তাকে পাত্তা দিও না,
চোখের বৃষ্টিকে দূর্বলতা ভেবে তুমিও কতদিন
ছুঁড়ে ফেলেছো কাছের জলাশয়ে!
ইদানিং তাদের কেউ কেউ মাছ হয়ে বেঁচে গেছে।
*
" গিলে ফেলতে গিয়ে জিভের ভেতর একটা
সমুদ্র আটকে গেলো। পুরনো ছবির ভেতর ভাসতে
ভাসতে আমিও একদিন সমুদ্রে যাবো, হলুদ একটা
মাছের জন্য।মরিয়ম বড়শি ধরে আছে.."
*
১১
এই পৃথিবীতে আমার নিজের সন্তান ছাড়া
আর কেউ নেই। মরিয়ম যেদিন পথের
ভেতর ডেকে এনেছিল সামসাম মাছকে,
সেদিনই নিশ্বাস বন্ধ হয়ে মরে গেছে মা- বাপ
আর পাখিদের বিপরীত সম্পর্ক। সন্ধ্যার মুখে
একটি ব্যর্থ ট্যাটু এঁকে আমিও আমার সন্তান
রেখে ঘুমিয়ে পড়ব কসম।
*
১৫
বিষন্ন হলো রঙিন জাল। আটকে পড়ছে
মরিয়মসমগ্র! ক্ষুধায়, তৃষ্ণায় মরিয়ম আটকে
গেছে সুতোগামী একটি রঙের ঠোঁটে।
ঠোঁট বলতেই একটি পাখিকে মনে পড়লো।
ফরেইন রিলেশন ঠুকরে ঠুকরে খাওয়াই ছিল
যার সারাদিনের কাজ।
*
১৬
ভীষণ রোদ একটি শাদা বাড়ির উপর শাড়ির
পাড়ের মতো পড়ছে।
মরিয়ম শুকিয়ে যাচ্ছে রোদে।
*
" আমি তো আমি না, শুধুই একটা বিস্কুটের খোসা, দীর্ঘ একটা জুতার ভেতর।"
*
" অদৃষ্টের এই গ্লাসে ঘাসের রস, ডুবে আছে
মুক্তোর মতো চাঁদ, এই পৃথিবী এমন
তোমার সন্তান যেভাবে গর্ভ ভ্রমণ করে আমার!"
*
" শহরে মিথ্যে গাছের সারি, আলোর জড়িবুটি,
হারানো মরিয়ম, সিনেমার পোস্টার-
ভালো থেকো।"
বইঃ মরিওঁম
লেখকঃ মাহী ফ্লোরা।
ধরনঃ বাংলা কবিতা।
প্রকাশকঃ চৈতন্য।
প্রকাশের সালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯।
পৃষ্ঠাঃ ৫২।
মূল্যঃ ১৫০ টাকা।

পাঠপ্রতিক্রিয়া: ইহিতা এরিনের " দেড়কাঠা উদ্ভিদবাড়ি"


 


 
ইহিতা এরিনের " দেড়কাঠা উদ্ভিদবাড়ি" পড়লাম। যেন এখানে সেখানে ফুল ফুটে আছে। বিচিত্র তার সৌরভ। অথবা কবিতায় নিনাদিত হচ্ছে বিভিন্ন তরঙ্গের শব্দ । শব্দগুলো টুংটাং বাজছে, কাচের মতো ভাঙছে, দূর থেকে ভেসে আসা পাখি ডাকের মতো হারিয়ে যাচ্ছে কোথাও। ইহিতা এরিন যেন শব্দজাল বুনছেন অথবা শব্দ সমীকরণের ভেতর ছড়িয়ে দিচ্ছেন চিন্তাসূত্র, সেটা পাঠককে ভাবাবে। কেবল শব্দের বাহারী খেলা কোথাও কোথাও চোখে পড়ে। শব্দগুলো পিয়ানোর বোতাম যেন৷ পাশাপাশি সাজানো আছে। মিলিয়ে বাজাতে পারলেই সংগীত নির্মিত হবে। এই নির্মাণ কি কবির একার? যতটুকু মুগ্ধতা পাওয়া হলো, যতটুকু পাওয়া হলো না সবকিছু মিলিয়ে কয়েকটি কবিতা বেশ ভালো লেগেছে। কবিকে
অভিনন্দন
বইঃ দেড়কাঠা উদ্ভিদবাড়ি।
লেখকঃ ইহিতা এরিন।
প্রকাশকঃ ঘোড়াউত্রা।
প্রকাশের সালঃ মার্চ ২০২১।
মূল্যঃ ৩৫ টাকা

পাঠপ্রতিক্রিয়া: অনুগল্প সংকলন " ড্যাস " তৃতীয় সংখ্যা


 


 
অনুগল্প সংকলন " ড্যাস " তৃতীয় সংখ্যা হাতে পেয়েছিলাম মাস কয়েক আগে। সম্ভবত ৪/৫ টা কপি অর্ডার করেছলাম।নিজের জন্য এক কপি রেখে বাকিগুলো আরও ২/৩ জনকে দিয়েছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল তারা প্রত্যেকে সংকলনটি পড়ে মন্তব্য করবে। আমার পাঠ্ অনুভূতির সাথে আরও কয়েকজনের পাঠ অনুভূতি জানা যাবে। বাস্তবতা হলো কেবল একজন ব্যতীত আর কেউ কিছু জানাননি। সংকলনটি ছোট। পড়তে এক ঘন্টার বেশি সময় লাগেনা। মন্তব্য করতেও বেশি পরিশ্রমের দরকার পড়ে না।
আমার প্রতিক্রিয়া সংক্ষেপে জানাইঃ
অনুগল্পগুলো পড়েছি। অধিকাংশ লেখায় বিবৃতি আছে কিন্তু গল্পটা নেই।৪/৫ টি লেখা ভালো লেগেছে। ড্যাস এর পরবর্তী সংখ্যার জন্য শুভকামনা।
অনুগল্প সংকলন - " ড্যাস"
সম্পাদক - ইউসুফ আলমগীর।
প্রকাশকাল- ১৬ ডিসেম্বর ২০২১।
যোগাযোগ- ২৩৮, জেলা পরিষদ মার্কেট। কুড়িগ্রাম, বাংলাদেশ।
মুঠোফোনঃ ০১৭১২ ২৫ ০২ ০৫

Tuesday, March 1, 2022

লাঞ্চ বিফোর দ্য ইউটার্ন বই সম্পর্কে একটি অপূর্ণাঙ্গ পাঠপ্রতিক্রিয়া


 



বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে যে কয়েকজন কবির কবিতা আমার ভালো লাগে, তার মধ্যে মোহাম্মদ জসিমের কবিতা অন্যতম। তার 'কোলাহল চিহ্নিত ' ও ' অসম্পাদিত মানুষের মিথ" বইদুটো পড়ার সুযোগ হয়েছিল এক বছর আগে। 'অশ্বখুর ও অন্যান্য টগবগ' বইটি নেব নেব করে নেয়া হয়নি।যার পাঠাবার কথা ছিল, তিনি পাঠাননি। এই বইমেলায় জসিমের " লাঞ্চ বিফোর দ্য ইউটার্ন " প্রকাশিত হয়েছে। গত দু/তিনদিন আগে বইটি পড়ে শেষ করেছি। বই হাতে পাওয়ার আগে থেকেই একটা পাঠপ্রতিক্রিয়া লেখার ইচ্ছে ছিল। যেভাবে লিখতে চেয়েছিলাম সেটা বোধ হয় আর হয়ে উঠবে না। আমার টেবিলে অনেকগুলো বই জমে আছে, এদিকে সময়ও খুব বেশি দেয়া যাচ্ছে না। একটা বই নিয়ে কথা বলতে গেলে কিছুটা সময় তো দেয়ার দরকার পড়ে। তাড়াহুড়ো করে কিছু বলতে গেলে বইয়ের প্রতি ন্যায়বিচার করাটা কঠিন হয়ে পড়ে। আমার এই তাড়াহুড়ো করে লেখা প্রতিক্রিয়ায় এই অসুবিধা মেনে নিয়েই দু' চার কথা বলে নেয়ার সাহস করি।
'লাঞ্চ বিফোর দ্য ইউটার্ন ' বইটির ইংরেজি নাম নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। নামটি একটি ভিন্ন ব্যঞ্জনা দেয়। নিজেকে অন্যগুলোর থেকে আলাদা করে প্রথমেই চিনিয়ে দেয়। জুলিয়েট যে বলেছিল, নামে কি এসে যায়? সেই কথার পিঠে বলতে হয় নামে অনেককিছু এসে যায়। তবে নামই সর্বস্ব নয়। নাম ও প্রচ্ছদ বইকে নান্দনিক করে তোলে। কিন্তু কেবল এই পোশাকি সৌন্দর্যে মোহিত হলে শেষে কবিতাপাঠ বিস্বাদ ঠেকে যদি টেক্সট ভালো নয়। মোহাম্মদ জসিমের টেক্সট ভালো ( মানে আমার ভালো লেগেছে দুটি বইয়ে, ভালো কি মন্দ কি করে বুঝি বলে চ্যালেঞ্জ করলে বলব আমার কাছে তা মাপার জন্য নিজের পাঠ অভিজ্ঞতা ছাড়া আর কিছু নেই।আগেই দায়মুক্তি নিলাম)। পূর্ব পাঠের অভিজ্ঞতায় এই বইয়ের প্রতি একটা প্রত্যাশা থাকাটা বোধ করি দোষের নয়। আল নোমানের করা চমৎকার প্রচ্ছদ অতিক্রম করে আসুন ভেতরে প্রবেশ করা যাক।
" পৃষ্ঠা বিন্যাস" এ একটি প্রবেশ গদ্যের সাক্ষাৎ পাই। হেনরী স্বপনের লেখার শিরোনাম দেখে আর এগোতে ইচ্ছে করে না। টেক্সট পড়ার আগে প্রবেশ গদ্য পড়াটা কবিতার প্রতি আমার নিজস্ব দৃষ্টিকে বিঘ্নিত করবে বলে সেটাকে এই স্থলে বাদ দেয়াই যুক্তিযুক্ত। এই বইয়ে কবিতা আছে ৫২ টি। কিছু কিছু নাম ইংরেজি বাক্য বাংলায় লেখা। আগে কবিতার নাম পড়তে শুরু করি। " লেট মি ডাই অর ফিনিশ মাই ড্রিমস" " ইট ওয়াজ ড্রিজলিং হোল নাইট" " অার্টস ডেথস এ্যান্ড ক্লাউনস" " ইনসাইড দ্য ব্লু বাস্কেট " " রে ভ্যু লি উ শ ন" " সিটি অব লাইস" " এনগেজমেন্ট " " ডেথ এ্যান্ড কিসেস" " ব্রেক আপঃ আ পোস্টমডার্ন সিনেমা" " নট ফর সেল" " ব্ল্যাক এ্যারোঃ টেল অব আ বাস্টার্ড " Feel in the blanks" " ননসেন্স ভার্স" " মাই লোনলি ক্লাউডস" " এ্যানাদার ডার্ক ইলিউশন" লাঞ্চ বিফোর দ্য ইউটার্ন " " মাই স্যাকরেড হোর" আমি হাঁপিয়ে উঠি। অনেক সময় একটি অনুভূতিকে একটি ভাষায় যেভাবে প্রকাশ করা যায় অন্য ভাষায় তার অনুবাদে সেটা আসে না জানি, কিন্তু এতগুলো কবিতার পর পর ইংরেজি শিরোনামে বুঝতে পারিনা বাংলায় ঠিক প্রকাশ সম্ভব ছিল কি না! অবশ্য কিছু কিছু কবিতার সাথে শিরোনামগুলো চমৎকার মেলে ( মোহাম্মদ জসিম বলতে পারেন সবই ঠিক আছে, আপনি বোঝেননি- তবে সেটাই সই")। এবার কবিতা পড়তে শুরু করি।
কবিতা কি? এর উত্তর কেউ কেউ দাবি করে। অনেক সময় ঠিক সংগা দিয়ে সেটা বোঝানো যায় না। আবার কোনটা কবিতা, কোনটা কবিতা নয় কিংবা কতটুকু কবিতা বা কবিতা নয় সেটা মাপার কবিতা মিটার যেহেতু আমার কাছে নেই, আমি নিরুপায়। আমার কবিতা পাঠের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমার প্রতিক্রিয়া জানানো, আরো স্পষ্ট করে বললে ভালো লাগা মন্দ লাগা জানানোর পথটাই আমার কাছে সহজ পথ। কঠিনেরে এই স্থলে ভালোবাসিলাম না!
" লেট মি ডাই অর ফিনিশ মাই ড্রিমস" কবিতা দিয়ে শুরু করি। মোহাম্মদ জসিমের কবিতা মূলত নিরীক্ষাধর্মী।তিনি ক্রমাগত কবিতার শরীর বদলাচ্ছেন।নতুনতর বিন্যাসে উপস্থাপন করছেন। শব্দের ব্যবহার থেকে উপমা, উৎপ্রেক্ষায়, ভাব ভঙ্গিমায় কবিতা পাঠের নতুন অভিজ্ঞতার সঞ্চার তিনি করতে পারেন তার লেখায়। এই বইটি পড়তে শুরু করলে সেটা বুঝতে পারি। শব্দের যোগ বিয়োগে ভাষা ও ভাবের বহুতর পরিবর্তন ও বহুতর ব্যাঞ্জনার সৃষ্টি হয়। ক্লাসিক কবিরা যে বলে থাকেন" কবিতা হলো শব্দের সাথে শব্দের বিয়ে" সেটাও এই বইয়ে পাই। তবে বিবাহ পরবর্তী মান অভিমান, ঠোকা- ঠুকি, এমনকি বিচ্ছেদের রূপগুলোও এখানে পাই। শব্দের মিলনের অমসৃণতাও তাই প্রকাশিত কোথাও কোথাও। ব্যকরণ ও অধ্যাপকীয় তত্ত্ব চিন্তার মন্দা ভাব ও জ্ঞানের অভাব হেতু কবিতার করণ-কৌশলের দিকে পা বাড়াতে আমি যাইনা। অামার সম্বল কবিতা পাঠের অভিজ্ঞতা ও আমার কান। প্রথম কবিতা পড়তে গিয়েই মাঝে ঢুকে পড়ে অন্ত্যমিলের দ্বিপদীগুলো।যেমনঃ
সেই বাড়িটার সুখরা
ভীষণ রকম মুখরা!
.
সেই বাড়িটার ফুলরা
ঢেউভাঙনের কূলরা!
.
সেই বাড়িটার পাখিরা
ছল মাখানো আঁখিরা!
আমার ঠিক ভালো লাগে না।কবিতা পড়তে পড়তে কম বেশি সকল কবিতায় এমন ব্যাপার দেখি। কখনো মনে হয় রহস্যাবৃত ধাঁধা, কখনো মনে হয় অহেতুক ছড়ার কাটাকুটি, কখনো সত্যি সত্যি তা ভাবের বহুতর পরিবর্তন ঘটায়, চিন্তার ভেতরে ঢুকতে ইশারা করে। আমি তাই ভিন্ন ফন্দি আঁটি। প্রথমবার সব ঠিকঠাক পড়ে যাই। দ্বিতীয়বার কেবল এই অন্ত্যমিলের পদগুলো পড়ি। তৃতীয়বার এগুলো বাদ দিয়েই কবিতা পড়ি। আমার মনে হয় হয় অধিকাংশ কবিতার ক্ষেত্রে এই পদগুলো না থাকলেও চলে। আমি যেভাবে পড়ছি এভাবে পড়াটা ঠিক কি বেঠিক জানিনা। আমার কবিতা পাঠের আনন্দ নষ্ট করেছে এই গুলি।
.
পি কা সো
বেশ্যার কবি, তুমি ঠিক আছো?
.
ভি ঞ্চি
প্রেম বেচে আমি পুরুষাঙ্গ কিনছি!
.
কা হ লো
কামশিল্পে উহঃ হলো, আঃ হলো!
" লাঞ্চ বিফোর দ্য ইউটার্ন" বইয়ের কবিতাগুলো নিয়ে বিস্তারিত বলার সুযোগ এখন নেই এটা শুরুতেই বলেছি। জসিমের কবিতা আমাদের ভাবায়৷ আমাদের কখনো বিস্মিত করে। সেটা একটা দুটো লাইন তুলে দিলে ঠিক কতটুকু বোঝা সম্ভব জানিনা। কবিতা নিয়ে অারেক দিন লেখার ইচ্ছে আছে। এই বইয়ে ভালো লাগার মতো অনেক কবিতার লাইন আছে। অনেক পূর্ণাঙ্গ কবিতা আছে। " আর্টস ডেথস এ্যান্ড ক্লাউনস" " ইনসাইড দ্য ব্লু বাস্কেট " " জানকীবাঈ নাচিলো যে রাতে" " সিটি অব লাইস" " কয়েকটি স্লো- মোশনড দৃশ্য " " ডেথ এ্যান্ড কিসেস" " আবহাওয়া সংবাদ আর মেগাসিটি রাত" " পাগলের রাশিফল " " নট ফর সেল" " Feel in the blanks " " শিশুনিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়" " জোয়ার ভাটা" " ফুলের কফিন" " আত্ম প্রকৃতিঃ মোহাম্মদ জসিম ও মুনলাইট ফুটনোটস" কবিতাগুলো ভালো লেগেছে। যে কবিতার নাম বলা হয়নি সেগুলোর ভেতরের ছড়িয়ে থাকা কিছু কিছু লাইন ভালো লেগেছে।
বইটি নিয়ে আমার প্রতিক্রিয়া ভালো মন্দ মেশানো। যতটা বলতে চেয়েছি লেখা শেষে মনে হলো সেটা খুব সামান্য বলেছি, অপ্রয়োজনীয় কথা বলেছি বেশি। এবার প্রবেশগদ্যের শিরোনাম নিয়ে কথা বলি।( গদ্যটা এখনো পড়িনি) । উত্তর আধুনিক কবিতার আর্কিটাইপ কেমন হয় সে ব্যাপারে আমি মূর্খ। আমার অত বিদ্যা- শিক্ষা নেই। তবে "কবিতায় উত্তর আধুনিকতা " এর উপাদান হয়ত কিছু কিছু আছে, থাকবে। তবে এগুলোকে প্রথমেই সন্দেহের চোখে দেখার পক্ষে আমি। আর কবিতায় বিমূর্ত রূপ দেয়ার চেষ্টায় কবিতার সৌন্দর্য ( পাঠের আনন্দ) ব্যহত হলে, পাঠকের কাছে তা অপ্রয়োজনীয় শব্দের কচকচানি, কবিতা কম শব্দের ঝনঝনানি সর্বস্ব লেখাজোখা হলে, কবিতার উদ্দেশ্য ব্যহত হয় বোধ হয়।
মোহাম্মদ জসিম এর " লাঞ্চ বিফোর দ্য ইউটার্ন " নানা বৈচিত্র্যে, আবার কখনো একঘেয়েমিতে ঠাসা। কবিতা পাঠের আনন্দ পাওয়ার সাথে সাথে কিছু জায়গায় সেটা ব্যাহত হতেও দেখা গেলো। তবে কবিতা গুলো ভাবাবে। চিন্তার খোরাক জোটাবে। সবথেকে বড় কথা হলো আপনাকে কবিতাগুলো সময় নিয়ে পড়তে বাধ্য করবে। কবিতাকে ভাঙতে ভাঙতে এগিয়ে চলা কবির কবিতা পড়তে পড়তে পাঠকের মনে হয়ত প্রশ্ন আসবে " তুমি কোন ভাঙনেরও পথে এলে সুপ্ত রাতে"..... কবিতা পড়ুন। আশা করছি নতুন অভিজ্ঞতা হবে।
বইঃলাঞ্চ বিফোর ইউটার্ন
লেখকঃমোহাম্মদ জসিম
ধরনঃ বাংলা কবিতা।
প্রচ্ছদ: আল নোমান
প্রকাশ কালঃ অমর একুশে বইমেলা-২০২২
প্রকাশকঃ বাউন্ডুলে।
মূল্যঃ ১৫০ টাকা।

Monday, February 21, 2022

ম্যাক্সিম গোর্কির পৃথিবীর পাঠশালায়



আমার বন্ধু অালেক্সেই মাক্সিমিচ পেশকভের সাথে পরিচয় আমার বিলম্বিত কৈশোরে। তারপর অনেক সময় কেটেছে। ভুলে গিয়েছি মাক্সিমিচের কথা। এমনকি সে বইটারও কথা যার মাধ্যমে তার সাথে পরিচয়।
বইটার শুরুটা এভাবেঃ
" তাহলে আমি কাজান শহরে চলেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে- কম কথা নয়!
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার চিন্তাটা আমার মাথায় ঢুকিয়েছিল নিকোলাই ইয়েভরেইনভ নামে স্কুলের এক ছাত্র। ইয়েভরেইনভকে দেখলেই ভালো লাগে, সে খুবই প্রিয়দর্শন তরুণ, মেয়েদের মতো কোমল তার চোখ দুটো। আমার সঙ্গে একই বাড়ির চিলেকোঠায় থেকেছে সে। প্রায়ই আমার বগলে এক- আধখানা বই দেখে আমার সম্পর্কে ওর এত আগ্রহ জন্মায় যে আলাপ- পরিচয়ও করে নেয়। তারপর দু-দিন না যেতেই সে আমায় উঠে পড়ে বোঝাতে থাকে আমার নাকি ' অসাধারণ পাণ্ডিত্যের প্রকৃতিদত্ত' সম্ভাবনা রয়েছে।
সজোর সুললিত ভঙ্গিতে মাথার লম্বা চুলগুলো ঝাঁকুনি দিয়ে পেছনে সরিয়ে সে বলত, ' জ্ঞান বিজ্ঞানের সেবার জন্যই প্রকৃতি তোমায় সৃষ্টি করেছে।'
খরগোশ হিসেবেও কেউ যে জ্ঞান বিজ্ঞানের সেবা করতে পারে সে- বোধ তখনও আমার জন্মায়নি, এদিকে ইয়েভরেইনভ কিন্তু আমায় জলের মতো সোজা করে বুঝিয়ে দিল যে বিশ্ববিদ্যালয়ে নাকি ঠিক আমার মতো ছেলেদেরই অভাব রয়েছে। পন্ডিত মিখাইল লমনোসভের উজ্জ্বল দৃষ্টান্তটাও সঙ্গে সঙ্গে তুলে ধরল সে। ইয়েভরেইনভ বলল, কাজানে তার সঙ্গে থেকে আমি শরৎ আর শীতের সময়টায় স্কুলের পাঠ একেবারে সড়গড় করে ফেলব, তারপর আমার 'দু- চারটে' পরীক্ষা দিতে হবে - 'দু-চারটে', কথাটা সে ওইভাবেই বলেছিল; বিশ্ববিদ্যালয় আমায় বৃত্তি দেবে; এবং বছর পাঁচেকের মধ্যেই আমি একজন ' বিদ্বান ব্যক্তি ' হয়ে যাব।ব্যস্, জলবৎ তরলং.... "
অতঃপর মাক্সিমিচ দিদিমাকে কাঁদিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলল বিশ্ববিদ্যালয় পড়বে বলে। বিংশ শতাব্দীর জার শাসিত রুশ সাম্রাজ্যে অাশ্রিত থেকে, রুটির দোকানে কারিগরের সাগরেদি করে অনেক বইপত্র পড়তে পারলেও শেষ পর্যন্ত কাজান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পেরেছিল কি না জানা যায় না। এই যে আশ্রিত জীবন, কুকুরের মতো জীবন, রুটির দোকানের সাগরেদির জীবন কিংবা গোপন বিপ্লবী সংঘের কার্যক্রম ও পাঠচক্রগুলোকে অ্যালেক্সেই মাক্সিমিচ বলেছেন My Universities. উপন্যাসের ( আমি উপন্যাস বলতে নারাজ অবশ্য) শেষটায় তাকে দেশান্তরি হতে দেখা যায় খালাসিদের সাথে....। বহুদিন কেটে গেছে। আমি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছি পড়তে এমন অমিত সম্ভাবনা নিয়ে। কিন্তু সেখানে অতিবাহিত ৫ বছরে আমার ঝুলিতে ধুলোকণাও জমেনি। মাক্সিমিচের পাঠশালাগুলো তাকে যেভাবে শিখিয়েছে জীবনের গভীর পাঠ, তার তুলনা নেই।...... বইটি নিয়ে বিস্তর লেখার যোগ্যতা আমার এখনও হয়নি বলে আমার বিশ্বাস।
দীর্ঘ ৬/৭ বছর পর বইটি দেখে মনো হলো কৈশোরের বন্ধুর সাথে পুনর্মিলন হলো। নতুন করে পড়তে শুরু করে দিয়েছিলাম দুদিন আগে।গতকাল ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বৃষ্টি, সারাদিন বিদ্যুৎ নেই, ফোন বন্ধ হয়ে গিয়ে অঢেল সময় হাতে ছিল।বইটি আদ্যোপান্ত পড়া হলো। একশ বিশ পৃষ্ঠার ছোট্ট বইটি পড়তে হাঁপিয়ে উঠেছি- এই হচ্ছে বর্তমান পাঠের অবস্থা!! ম্যাক্সিম গোর্কির এই বইটির ইংরেজিতে নাম My Universities.রুশ ভাষায় কখনো পড়া হবেনা হয়ত।তবে ইংরেজি ভাষায় পড়ার ইচ্ছে আছে। আমার কাছে থাকা বাংলা বইটির নাম " পৃথিবীর পাঠশালায়"। রথীন্দ্র সরকার অনূদিত।
মায়েস্ত্রো ম্যাক্সিম গোর্কির সব লেখা আমার পড়া হয়নি।এখনো সেসবের জন্য উদগ্র কামনা বোধ করি....



Powered by Blogger.

অনুপ চণ্ডালের Haiku In Autumn Days সম্পর্কে প্রতিক্রিয়াঃ

    অনুপ চণ্ডালের Haiku In Autumn Days সম্পর্কে প্রতিক্রিয়াঃ হাইকুর মধ্যে দিয়ে যে এত গভীর অনুভূতির প্রকাশ ঘটানো সম্ভব তা অনুপ চণ্ডালের Haik...

Formulir Kontak

Name

Email *

Message *

Search This Blog

Subscribe Here

Recent

Flickr